মফস্বলে সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে সংস্কৃতিচর্চা বাড়বে : হাবিবুল ইসলাম হাবিব

85

শোবিজ বাংলা প্রতিবেদক: নির্মাতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে ৩০০টি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছেন। তার মতে দেশের সামাজিক অবক্ষয় রোধে শুদ্ধ বিনোদন চর্চা ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের নানাবিধ আচরণে তিনি ব্যথিত। তাই নিজের দাবীর প্রতি আরও সোচ্চার হয়েছেন তিনি।

হাবিব বলেন, ইদানিং মানুষজনকে বেশ অস্থির মনে হয়। তারা একে অন্যের প্রতি সহনশীল নয়। কারো মৃত্যুতে হৃদয় কাঁদে না। কারো কষ্টে মন খারাপ হয় না। সবাই যেন ছুটছে। অথচ একটা সময়ে এসব ছিলো না। পাড়ায় পাড়ায় সংস্কৃতি চর্চা হতো। ক্লাব ছিলো। খেলাধুলার পরিবেশ ছিলো। সুস্থ আড্ডা হতো। আজ এসব নেই। মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে আছে। ভালো – মন্দ বিচার করার বোধ লোপ পেয়েছে। তারা খবরের কাগজ পড়ছে না। টেলিভিশন দেখছে না। রেডিও শুনছে না। বই পড়ছে না। সময় কাটাচ্ছে ফেসবুকে।

তিনি হতাশ গলায় বলেন, সমালোচনা করা ভালো। তবে তা যেন হয় গঠনমূলক। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য সমালোচনা যেন না করা হয়। একটা সিনেমা আমার ভালো না লাগতে পারে। আমি এমন করে বলব যাতে নির্মাতা তার ভুলগুলো ধরতে পারেন। কিন্তু তা না করে যদি তাকে অপদস্ত করার জন্য কথা বলি তাহলে তো পারস্পরিক সম্মান, শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটা থাকলো না। তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সবকিছু আমার পছন্দ হবে না। যা অপছন্দ তার পেছনে কেন আমি সময় নষ্ট করব?

হাবিব সিনেপ্লেক্স নির্মাণ প্রসঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি দেশের সংসদীয় আসনগুলোয় সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে মফস্বলে সংস্কৃতি চর্চা ফিরে আসবে। তরুণরা সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন দেখবে। তারা নিজের গল্পের চিত্রায়ণ করতে চাইবে। তারা চিত্রনাট্যকার হবে। তারা পরিচালক হবে। তারা সিনেমাটোগ্রাফার হবে। আমাদের আগামী প্রজন্ম সুস্থ মানসিকতায় বেড়ে উঠবে।

প্রসঙ্গত, হাবিবুল ইসলাম হাবিব গত ২ এপ্রিল বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নির্বাচনে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী মৌসুমীকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিয়ে নির্মাণ করেছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবি ‘রাত্রির যাত্রী’।